বাকস্বাধীনতা বলতে কী বুঝায়?

আমি মনে করি না বাকস্বাধীনতা বলতে আমরা ভুল বুঝি। যেটা আসলে বুঝি না এবং বোঝা দরকার তা হলো বাকস্বাধীনতা হচ্ছে একটি দু'মুখো তলোয়ার। কোনো কিছুর সমালোচনা করার অধিকার থাকা যদি বাকস্বাধীনতা হয় তবে সেই একই নিয়মে কোনো কিছুর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারের অধিকারও বাকস্বাধীনতার আওতায় পড়ে। কেউ বলতে পারেন এটা বাকস্বাধীনতার অপপ্রয়োগ, কিন্তু বাকস্বাধীনতার অপপ্রয়োগ বলে কিছু হয় না। বাকস্বাধীনতা হয় আছে, নয়তো নেই। নিয়ন্ত্রিত বাকস্বাধীনতা বলে কিছু হয় না।

প্রকৃত অর্থে বাকস্বাধীনতা পৃথিবীর কোনো সমাজেই নেই, ব্যাপারটা স্রেফ সীমারেখার। কোথাও এই সীমারেখা টানা হয়েছে ধর্মের নামে, কোথাও মানবিকতার নামে, কোথাও রাষ্ট্রের নামে। পার্থক্য শুধুমাত্র আমরা কোনটায় বিশ্বাসী তাতে। আর জটিলতার সূত্রপাতও এখান থেকেই, কারণ সীমারেখা ঠিক কোথায় টানতে হবে তা নিয়ে নানা মত থাকবে, বিরোধও থাকবে। এই কারণেই বাকস্বাধীনতার বিষয়টি এতো জটিল ও সংবেদনশীল। একজনের কাছে যা বাকস্বাধীনতা, অন্যের কাছে সেটাই হয়ে ওঠে বিদ্বেষমূলক প্ররোচনা।

তবে আমার ব্যক্তিগত মতামত যদি দিতে হয় তবে বলবো, একটি আদর্শ সমাজে কোনো কিছুই সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকা উচিত নয় আবার কোনো কিছুই বিদ্বেষবর্ষণের উপযুক্তও হওয়া উচিত নয়। এই দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষাই হবে সেই সমাজের আদর্শ। হয়তো এমন আদর্শ সমাজ কেবল কল্পনাতেই সম্ভব, কিন্তু কল্পনা করতে তো আর দোষ নেই।

Popular posts from this blog

Privacy Policy For Blogger

বাংলা গানের একাল-সেকাল

রাজনীতিতে মার্কিন অ্যাম্বাসি কেন সেইফ?